সুন্দরবনে পর্যটকবাহী লঞ্চ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কয়েকটি শর্তে প্রত্যাহার

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনে পর্যটক ও নৌ-পরিবহনসহ সব ধরনের নৌ-চলাচলে সকালে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা রাতে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাথে যৌথসভা শেষে সীমিত সংখ্যাক যাত্রী পরিবহনসহ কয়েকটি শর্তে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে, গত বুধবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ সুন্দরবনে সব ধরণের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

অপ দিকে, সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের নেতৃবৃন্দ এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এ দু’টি সংগঠনের নেতাদের সাথে তাদের বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনা আঞ্চলিক অফিসে সভা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সভায় কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচলসহ বেশ কয়েকটি শর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

এ বিষয়ে ট্যুর এসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি মইনুল ইসলাম জমাদ্দার প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সরকার যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে নৌ-পরিবহন বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই, তাহলে আমরা এটা কেনো মানবো?’ তিনি দাবি করেন, আমরা সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ও জাহাজ পরিচালনা করব।

খুলনা নদীবন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সুন্দরবনে ব্যবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্টদের সভা শেষে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচলসহ আরও কিছু শর্ত দিয়ে সুন্দরবনে পর্যটন নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছিলেন করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’-এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবন ভ্রমণে নৌযান চলাচলে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সুন্দরবনে ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন ট্যুরিস্ট অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, আগামী ফেব্র“য়ারির শেষ পর্যন্ত সব ট্যুর অপারেটরদের নৌযান বুকিং দেওয়া আছে। অনেকেই অগ্রিম টাকা নিয়ে খরচও করে ফেলেছেন। এমন পরিস্থিতে ওই নিষেধাজ্ঞা ট্যুর অপারেটরদের বিপাকে ফেলবে। ওই নিষেধাজ্ঞার পর শুক্রবার যেসব নৌ-যানের সুন্দরবনে ট্যুর নিয়ে যাওয়ার কথা তাঁরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতে কী করবেন তা কেউ বুঝে ওঠতে পারছেন না। এ ব্যাপারে এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

উলে­খ্য, করোনা পরিস্থিতির শুরুতে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলে ওই বছরের ১ নভেম্বর থেকে স্বল্প পরিসরে সুন্দরবন ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর সাড়ে সাত মাস পর ফের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে ফের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সাড়ে চার মাস বন্ধের পর ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আবারও সুন্দরবন ভ্রমণ শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর