সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে দলীয় উৎসবে পরিণত করেছে : চরমোনাই পীর

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

২৬ মার্চ ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়নে পতাকা র‌্যালী

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে সর্বদলীয় জাতীয় কমিটি গঠন করে এই উৎসবকে সার্বজনীন করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে তাদের দলীয় উৎসবে পরিণত করেছে। সরকার দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা দিয়ে জনতার মাঝে বিভেদ তৈরি করে রেখেছে। একটি জাতীয় আনন্দঘন মুহুর্তকে এভাবে দলীয়করণ করার নিন্দা জানাচ্ছি। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আনন্দমুখর মুহুর্তে সরকার দেশের রাজধানীতে সকল প্রকার সম্মিলিত ও প্রকাশ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কেবল রাষ্ট্রীয় এবং সরকার দলীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মুহুর্তে এমন নিষেধাজ্ঞা স্বাধীনতার মৌলিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। মানুষের রক্তে কেনা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে সরকারের এমন বিধি-নিষেধ অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে সকল বিধি-নিষেধ তুলে নিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকি ও সমকালীন জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার গোলাম মাওলা, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারি মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা শোয়াইব, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, এডভোকটে শওকত আলী হাওরাদার প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে ৮দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১. ২৬ মার্চ ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা/মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়নে পতাকা র‌্যালী। ২. মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ৩. দেশের প্রতিটি জেলায় মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে আলোচনা সভা, সেমিনার আয়োজন ৪. মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ ৫. আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ইশতেহার প্রকাশ ৬. মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিল ৭. ভোটাধিকারসহ জনগণের অন্যান্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা তৈরী ৮. বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনমত গড়ে তোলা।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মেহমানকে আপ্যায়ন করা ইসলামের রীতি। এমনকি সে যদি আপন পিতার হত্যাকারীও হয় তবুও। এটা ইসলামের সৌন্দর্য্য। সে হিসেবে বাংলাদেশে আমন্ত্রিত সকল বিদেশি মেহমানদের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিষয়টি আলাদা। তার সহিংস অতীত এবং ক্ষমতাগ্রহণের পরে ভারত জুড়ে তিনি যে ধর্মীয় সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশে তাকে স্বাগত জানানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই। নরেন্দ্র মোদি ভারতে বৈষম্য, সংখ্যালঘুদের ওপরে অত্যাচার-নিপীড়ন, ধর্মীয় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষকে পিটিয়ে মারা, কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া এবং সিএ-এর মতো বর্ণবাদী আইন করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতে বসবাস করা মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার মতো কাজ করছে।

তিনি বলেন, এদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ একত্রে বসবাস করেছে। তাদের মাঝে সামাজিক ঝগড়া, ফাসাদ হলেও ধর্মকে কেন্দ্র করে গণ সাম্প্রদায়িকতা হয়নি। এমনকি এখানে গণধর্মান্তর ঘটেছে কোনো ধরণের সহিংসতা ছাড়া। হিন্দু প্রধান বাংলা মুসলিম প্রধান হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই। সেই বাংলায় ইংরেজ আগমণের পর থেকে শুরু হয়ে সম্প্রতি সুনামগঞ্জের শাল্লা অবধি নানা সময়ে কথিত সাম্প্রদায়িক হানাহানির কথা শোনা যায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে মুসলমান ও ইসলামপন্থীদের ওপরে দায় চাপানো হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের সকল ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার ঘোষণা দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রথম দফা নির্বাচনে নানাস্থানে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এবং তাদের দলীয় মাস্তানরা আমাদের প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে মনোনয়ন জমা দানে বাধা, মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগসহ নানা রকম আচরনবিধি বিরোধী ও অগণতান্ত্রিক অপকর্ম করেই যাচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা সত্যেও প্রথম পর্বে সারা দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ২২৭জন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে সক্ষম হয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর আমাদের অনেক প্রার্থীকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে আরো হয়রানী করছে। আমি পরিস্কার করে বলতে চাই, এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, সুশাসন এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর