রাজশাহীতে বিএনপির আলোচনা সভায় হাতাহাতি

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২

রাজশাহীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর মালোপাড়া হার্ডওয়ারপট্টিতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যার পর নগরীর মালোপাড়ায় বিএনপি কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিএনপির দলীয় কর্মসূচি হলেও এর মূল আয়োজক ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা। সন্ধ্যার পর কর্মসূচিতে প্রায় সব নেতারা উপস্থিতি ছিলেন। তবে কেবল ছিলেন না, নগর কমিটির সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদ। বিষয়টি পরে জানতে পেরে তিনি বিএনপি কার্যালয়ে এসে কর্মসূচিতে যোগ দেন। তবে কর্মসূচিতে তার যোগদানের পর আপত্তি তোলেন নজরুল হুদা। সদস্য সচিব মামুন থাকলে তিনি ওই কর্মসূচিতে থাকবেন না বলে উপস্থিত সবাইকে জানান।

অপরদিকে, সদস্য সচিব মামুনের অভিযোগ, তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মসূচির কথা জানানো হয়নি। এসময় সদস্য সচিব বাদেই কেন এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে তা জানতে চান মামুনের সমর্থকরা। এ ঘটনায় নজরুল হুদা ও মামুনের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো কর্মসূচিই ভেস্তে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের কিছু চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া দুগ্রুপের হাতাহাতিতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

এ বিষয়ে কথা হয় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, দলীয় একটি কর্মসূচি হচ্ছে অথচ আমিই জানি না। জানার পরপরই দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু আমার উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা। কেন মানছেন না, সেটা তিনিই ভালো জানেন। তবে ঘটনাটি দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা বলেন, ওর সঙ্গে (সদস্য সচিব মামুন) কিছু খারাপ ছেলেপেলে থাকে। তারা প্রায় মিটিংয়ে ঝামেলা করে। যার কারণে আমি ওই সময় বলেছি, তোমরা থাকো আমি এ কর্মসূচিতে থাকবো না। আমি বের হয়ে চলে আসার কারণে তখন আমার লোকজনেরা প্রতিবাদ করে, যার কারণে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা বলেন, কোনো মিটিং বা কার্যক্রম আমার আহ্বানে সদস্য সচিবের মাধ্যমেই পরিচালিত বা অনুষ্ঠিত হবে। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতি ছাড়া কোনো দলীয় কর্মসূচি হয় না। তারপরও ওই প্রোগ্রামে উপস্থিত হতে আমার দেরি হয়েছিল। সেখানে গিয়ে যখন দেখলাম তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে তখন কর্মসূচি বাতিল করার নির্দেশ দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলি। এ নিয়ে আর তেমন কিছু হয়নি বলেও জানান বিএনপির এ নেতা।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টিতে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা হয়নি।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর