মেধাস্বত্বের জন্য লড়ছি: সাবিনা ইয়াসমিন

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। অসংখ্য ছবিতে তিনি প্লেব্যাক করেছেন। তার সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ লাখো শ্রোতা। গেয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার গান। যার ফলও পেয়েছেন যথাযথ। রেকর্ড ১৩ বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার। এছাড়া মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারসহ তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য সম্মাননা।

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, দীর্ঘদিন গানের জগত থেকে দূরে ছিলেন সংগীতের জীবন্ত এই কিংবদন্তি। সেই বিরতি ভেঙে আবারও তিনি ফিরেছেন তার চেনা রাজ্যে। সম্প্রতি অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার প্রযোজিত সরকারি অনুদানের ছবি ‘এই তুমি সেই তুমি’তে ‘তুমি সত্যি করে বলো’ শিরোনামের একটি গানের সুর ও সংগীত করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এই প্রথম কোনও গানের সুর ও সংগীত করলেন তিনি। গানটির কথা লিখেছেন কবরী। গেয়েছেন এ প্রজন্মের দুই শিল্পী ইমরান ও কোনাল।

এছাড়া সম্প্রতি ‘সুখের অসুখ’ শিরোনামের একটি গানে সাবিনা ইয়াসমিন কণ্ঠও দিয়েছেন। এর সুর করেছেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস। সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে তিনি কণ্ঠও দিয়েছেন। গানটির কথা লিখেছেন শেখ নজরুল। সংগীতায়োজনে ছিলেন উজ্জ্বল সিনহা। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনও মিউজিক্যাল ফিল্মে কণ্ঠ দিলেন সাবিনা ইয়াসমিন।

সম্প্রতি নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় এই গুণী শিল্পীর সঙ্গে। একসময় প্রায় প্রতিদিনই সিনেমার গানের ব্যস্ততা থাকলেও বর্তমানে তার কন্ঠে অভিমানের সুর। বর্তমান চলচ্চিত্রের গান টানে না সাবিনা ইয়াসমিনকেও। আক্ষেপ করে বললেন, ‘বর্তমানে যে ধরনের ছবি হচ্ছে, সেসব ছবিতে মনে হয় আমার গান প্রয়োজন হচ্ছে না। যার কারণে কেউ ডাকছে না।’

বর্তমান সময়ের ছবিতে সুরের ধন্যতা, কথার ধন্যতা। এ প্রসঙ্গে শিল্পী বলেন, ‘সব গান যে খারাপ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। কিছু ভালো গানও তৈরি হচ্ছে। আগে সামাজিক গল্প নির্ভর ছবি নির্মাণ হতো। গল্পর সঙ্গে এতো সুন্দর ভাবে গান তৈরি হতো, যা বলে শেষ করা যাবে না। বর্তমানে ছবি সুন্দর হচ্ছে কিনা জানি না। ভালো ছবি তৈরি হলেও এখন আর গান কেন জানি মনে দাগ কাটতে পারছে না। একবার শুনলে সবাই ভুলে যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে সবাই ৫০ বছরের আগের গান শুনতে চায়। আগে একটি গানের জন্য অনেক পরিশ্রম করতাম। একটি গান করতে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যেতো। এখন তো একদিনেই গান তৈরি হচ্ছে।’

এদিকে, কপিরাইট (মেধাস্বত্ব) নিয়েও আক্ষেপ করেন সাবিনা ইয়াসমিন। জানান, ‘কেউই মেধাস্বত্ত্ব পাচ্ছে না। এর জন্য বহু আগে থেকেই লড়াই করছি। সুরকার আলাউদ্দিন আলী চেষ্টা করতে করতে চলে গেলেন। শিল্পীদের মেধাস্বত্ব নেই। গ্রামীনফোন থেকে শুরু করে হাজারটা মোবাইল ফোন ওয়েলকাম টিউন, কলার টিউন ব্যবহার করে, কিন্তু কেউতো মেধাস্বত্ব দিচ্ছে না। রেডিও টেলিভিশনে গান বেজে চলেছে। তারাও মেধাস্বত্ব দিচ্ছে না। যদি পেতো, তাহলে আব্দুল আলিমের পরিবার এতো কষ্টে থাকতো না। তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর