মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১

তুমুল সমালোচিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে আগে থেকেই তীব্র সমালোচনার মধ্যে আছেন এই প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে এক চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দিই।’

মুরাদের একান্ত সচিব (রাজনৈতিক) জাহিদ নাঈম বলেন, ‘তিনি (মুরাদ) পদত্যাগ করবেন শুনেছি। তবে তার সঙ্গে আমার সরাসরি কথা হয়নি। তাই বলতে পারছি না কখন পদত্যাগ করবেন।’

প্রতিমন্ত্রী আগের দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও সোমবার দিনভর নিজেকে আড়াল করে রাখেন। রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তাতে যাননি।

দুই দিন আগে একটি অনলাইন টকশোয় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেন।

এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই ফেসবুকে একটি টেলিফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি মুরাদের। সেখানে শোনা যায়, তিনি একজনকে ফোন করে এক চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। এই কথোপকথনে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।

মুরাদকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন ৪০ জন নারী অধিকারকর্মী। বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তার ভাষা সভ্য নয়।

অনলাইন সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি যা বলেছেন, তার জন্য দুঃখিত নন। বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না। আর সমালোচনা তিনি গায়ে মাখেন না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দুপুরে মুরাদ ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বিষয়ে কথা বলবেন- এমনটিও জানিয়েছেন। বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।

বিএনপিও প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। পাশাপাশি ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরাও বলছেন, মুরাদের মতো একজন নেতা মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমরা তার কথা ও আচরণে বিব্রত ও লজ্জিত।’

মন্ত্রিসভার একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, মুরাদের বিরুদ্ধে দলও ব্যবস্থা নেবে।

মুরাদ জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তার আসনটি জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার তাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনের পর মুরাদকে প্রথমে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর