বাগেরহাটে করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব, বাড়ছে উদ্বেগ

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

১৪ দিন পর এলো ২৬ জনের রিপোর্ট, পেন্ডিং ২২২ নমুনা

বাগেরহাটে করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিসহ জনসাধারনের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিলেও রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় বাড়ছে সংক্রমনের ঝুঁকি। এ অবস্থায় দ্রুত ফলাফলের দাবি জানাচ্ছেন করোনা উপসর্গে থাকা ব্যক্তিসহ জেলার সাধারন মানুষ। আর জেলার সুশিল সমাজ বলছে দ্রুত ফলাফল না পাওয়া গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে পুরো জেলায়।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে, ১ হাজার ৫৩০ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। রিপোর্টে ১১১ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। ২২২ জনের রিপোর্ট এখনও অপেক্ষমান রয়েছে। এদের মধ্যে ১২০টি নমুনা ১৪ থেকে ১৬ (৬, ৭, ৮ জুন) পাঠানো হয়েছে। নমুনাগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে রয়েছে। কবে নাগাদ এই রিপোর্ট পাওয়া যাবে তাও সঠিক করে বলতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেনী সরকারি মহিলা কলেজর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সালমান বিশ্বাস (৩০) গত ১ জুন কর্মস্থল থেকে চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের হাড়িয়ার ঘোপ গ্রামের বাড়ি আসেন। করোনা উপসর্গ থাকায় ২ জুন তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ১২ দিন পর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এখন তিনি হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন হাসান জানান। অনুরূপ ফকিরহাট উপজেলার ২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফল ১৪ দিন পর পৌঁছায় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অসীম কুমার সমাদ্দার নিশ্চিত করেন। বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের জনৈক ভ্যান চালক নমুনা দেয়ার পর ভ্যান চালিয়েছেন। ৬ দিন পর তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। জেলায় করোনা আক্রান্ত এমন ঘটনা রয়েছে আরও। করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রায় একই চিত্র ১৮ লাখ লোক অধ্যুষিত বাগেরহাট জেলার অধিকাংশ ক্ষেত্রে।

করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া এক রোগী জানান, ৭ জুন নমুনা দিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাইনি। জানিনা করোনা হয়েছে কি না। বাসার সবাইতো টেনশনে আছেই। প্রতিবেশিরাও নানা কথা বলছে। রিপোর্ট এলে বুঝতে পারতাম। চিকিৎসকদের কাছে রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলে পেয়ে যাবেন একটু অপেক্ষা করেন।

নমুনা দেওয়ার পরে রিপোর্ট না পাওয়া এক রোগীর স্বজন জানান, ১০-১২ দিন আগে ভাইয়ের নমুনা নিয়েছে। কিন্তু এখনও রিপোর্ট আসেনি। ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভাল। তারপরও জোর করে ঘরে বদ্ধ করে রেখেছি। রিপোর্ট পেলে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত টেনশন কাটছে না।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, বাগেরহাট জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে স্থানীয় নমুনার চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ১২০টি নমুনা অপেক্ষমান রয়েছে। আমরা যোগাযোগ করেছি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নমুনাগুলোর পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়া যায়। আর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে যেসব নমুনা পাঠানো হচ্ছে তা দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, বাগেরহাটে পিসি আর মেশিন স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে বলা হয়েছে। আশা করছি বাগেরহাটে পিসিআর ল্যাব স্থাপন হলে বাগেরহাটের নমুনাগুলোর রিপোর্ট স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত পাবে। যার ফলে সময়মত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর