নগরীর দৌলতপুরে বিষ্ময় তুলেছে কোরবানীর গরু `কালু ও নবাব’

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২

নগরীর দৌলতপুর এলাকার পাবলা কেশবলাল রোডস্থ আইডিয়াল স্কুল সংলগ্নে গড়ে ওঠা সাদ্ এন্ড শামস্ এগ্রো খামারের বিশাল আকৃতির গরু কালু ও নবাব বিস্ময় সৃষ্টি করেছে দৌলতপুর সমগ্র এলাকায়। খামারি প্রিন্স তার কালুর দাম হাকাচ্ছেন ১৬ লক্ষ টাক আর নবারের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। খামারের মালিক কেসিসি’র ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ শামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স শখ হতে আজ বানিজ্যিক ভাবে গড়ে তুলেছেন এই খামার। খামারে বর্তমানে রয়েছে ১২টি দুধের গাভী, যা হতে প্রতিদিন ১২০ হতে ১৩০ কেজি দুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে এবং স্থানীয় পর্যায়ের লোকেরা এই খামার হতে সরাসরি এসে ভেজালহীন দুধ সংগ্রহ করেন।

খামার মালিক শামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স জানান, আমার দাদা, বাবাকে দেখেছি গৃহস্থালীতে গরু পালন করতে। গেল করোনায় সময় মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েন। তখন আমি চিন্তা করি ঘরে বসে না থেকে কিছু একটা করি। যা দেশ ও মানুষের সেবার পাশাপাশি হালাল রোজগারের ব্যবস্থা করবে। সেই থেকে এই খামার তৈরী। করোনাকালীন সময় হতে দুই একটা গরু ক্রয় করে লালন-পালন করতে করতে আজ খামারে গাভীর সংখ্যা ৩২ টি, যার মধ্যে দুধ দিচ্ছে ১২টি পাশাপাশি মোটা তাজাকরণ পদ্ধতি ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পরিচর্চা করে খামারে বিভিন্ন আকারের ছোট, বড় ও মাঝারী কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে। কোরবানীর জন্য প্রস্তুত ওই সকল গরুর সংখ্যা প্রায় ৫০ টিরও অধিক। যার মধ্যে রয়েছে দেশি, ফ্রিজিয়ান, ইন্ডিয়ান গীর, শাহী ওয়াল, আমেরিকান ব্রামা, নেপালী গীর সহ বিভিন্ন জাতের গরু। খামারে ৫২ হাজার টাকা হতে শুরু করে ১৬ লক্ষ টাকার গরু রয়েছে। প্রতিদিনই খাবারের সবচেয়ে বড় গরু কালু ও নবাবকে দেখতে এলাকার উৎসুক মানুষ ভীড় জমাচ্ছে, পাশাপাশি ক্রেতাও আসছে। এ পর্যন্ত ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে।

খামার পরিচর্চা কারী মিরু জানান, আমাদের খামারের গরুকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে থাকি। যার মধ্যে গমের ভূষি, বুটের ভূষি, ভূট্টার গুড়া, সরিষার খৈল, প্রাকৃতিক ঘাসও বিছালী। প্রতিদিনই ক্রেতারা আসছেন।

খাবারে আসা ক্রেতা রহিম জানান, দেশে সম্প্রতি আবার করোনার বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করেছে। ঈদের বাকি হাতে গোনা কয়েক দিন। হাটে সমাগম বেশি হবে। লোকমুখে শুনেছি পাবলা আইডিয়াল স্কুলের পাশের খাবারে নাকি কোরবানীর পশু বিক্রি হচ্ছে, তাই দেখতে এলাম। সব সাইজের গরুই এখানে আছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এখানকার সবচেয়ে বড় গরু কালুকে দেখে। গরুটি সত্যই বিশাল আকৃতির। খামার মালিক দাম চাচ্ছেন ১৬ লক্ষ টাকা। আমি মাঝারী সাইজের দেশি একটি গরু কিনবো।

অপর ক্রেতা সাব্বির জানান, নগরীর বেশ কয়েকটি হাটে ঘুরলাম। গরুর সরবরাহ তুলনা মুলক কম। হয়তোবা ঈদের ১/২ দিন আগে গরুর সমাগম ঘটবে। ইচ্ছা থাকলেও নিজে একটা গরু কোরবানী দেওয়া সম্ভব হয় না। ভাগে দিতে হয়। ভাগে দিতে গেলে ৯০ হাজার ১ লাক্ষের নিচে গরু কেনা যায় না। বুধবার পাবলা আইডিয়াল স্কুলের পাশে একটি খামারে বিভিন্ন সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে জানতে পরে দেখতে এলাম।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর