দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধান হয়নি, ভোগান্তিতে রোগীরা

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩

খুলনায় ডা. নিশাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলার অভিযোগে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন চিকিৎসকরা চলছে। দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে অব্যাহত রয়েছে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন রোগীরা। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা নিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। তবে দাবিতে অনড় রয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করতে বিকেলে খুলনা বিএমএ ভবনে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. রাশেদা সুলতানা নেতৃত্বে আসা একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বিএমএ, ক্লিনিক মালিকসহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

সাতক্ষীরার কলোরোয়া থেকে স্ট্রোক করা রোগী মা সাজেদা বেগমকে (৭০) নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এসেছেন আকলিমা বেগম। তিনি বলেন, মায়ের ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার রয়েছে। গত চার দিন এখানে রয়েছি। এই সময়ে বড় ডাক্তার আসেনি। নার্সরা আসছেন। মা মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চার দিন বসে আছি, আর কয়দিন বসে থাকব জানি না। ঠিকমতো সেবা পেলে মা সুস্থ হয়ে যেত। শুনেছি ডাক্তারকে মেরেছে, এই জন্য তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন শেখ মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কালিয়া থেকে ডেলিভারী রোগী নিয়ে খালিশপুর ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। সেখানে ডাক্তার না থাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে বড় ডাক্তার নেই। নার্সরা দেখাশোনা করছেন। ডাক্তার কখন আসবেন না আসবেন, কী হবে? এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সাধারণ মানুষের তো ভোগান্তি। আমরা দ্রুত এর অবসান চাই। সাধারণ রোগীরা যাতে চিকিৎসাসেবা পেতে পারে তার আশু কামনা করছি।

dhakapost

খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মেহেদী হাসান বলেন, কর্মসূচি চললেও আমরা রোগী দেখছি। গতকালও সিনিয়র চিকিৎসকরা এসে রোগী দেখেছেন। এখানে প্রতিনিয়ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। তাদেরতো দেখতে হবে। আমরা সেবার দিকটি খেয়াল রাখছি।

রোগী ভোগান্তির বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, প্রত্যেক দিন হাসপাতালে সাধারণত ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী থাকছে। নরমালি ১৫ থেকে ২০ জন রোগী প্রত্যেকদিনই মারা যায়। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একসঙ্গে কর্মবিরতির কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ও রোগী মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৪০০ রোগী ছিল। এর মধ্যে মারা গেছেন ২০ জন, ২৮ ফেব্রুয়ারি রোগী ছিল ১৩৪৫ জন, ১৭ জন মারা গেছেন। আর ১ মার্চ রোগী ছিল ১৪১৮ জন, মারা গেছেন ২০ জন। ২ মার্চ রোগী ছিল ১৩১০ জন, ১৬ জন মারা গেছেন। এর মানে আমরা দেখছি যে ধারাবাহিকতা একভাবেই আছে। যেমন মারা যায় তেমনই আছে। কর্মবিরতির জন্য বেশি মারা গেছে- এমন কোনো বিষয় নয়। আর দায়িত্বে অবহেলার জন্য কোনো রোগী মারা যায়নি।

ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, আমাদের জরুরি সেবা কিন্তু সবসময় চালু আছে। হাসপাতালের ভেতরের সেবা চালু আছে। ডাক্তাররা সব সময় রাউন্ড দিচ্ছে।

বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল এসেছে। আমাদের সঙ্গে ও প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করবে। কীভাবে সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা আশা করি। আমরাও চাই না রোগীরা ভোগান্তিতে থাকুক। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

চিকিৎসকরা জানান, গত ১ মার্চ থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বিএমএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদেরকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া বিএমএর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন খুলনা বিএমএ নেতাদেরকে ফোন করে একই নির্দেশনা দেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বেলা ১১টায় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল চত্বরে যে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কর্মসূচি ছিল তা বাতিল করা হয়। বেলা ১১টায় খুলনা বিএমএ কার্যালয়ে জরুরি সভা করেন চিকিৎসকরা।

তবে ঊর্ধ্বতনদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারে নির্দেশ থাকলেও প্রায় ৪ ঘণ্টার সভায় কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জরুরি সভা শেষে খুলনার বিএমএ সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নিশাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলাকারী পুলিশের এএসআই নাঈমকে গ্রেপ্তার এবং দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

আগামীকাল শনিবার (৪ মার্চ) দুপুর ১২টায় আবু নাসের হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় বিএমএ কার্যালয়ে সংগঠনের জরুরি সাধারণ সভা করা হবে। ওই সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর