ড্রোন হামলায় বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছিল, স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গত ২৬ আগস্ট কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইএস-কের ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার জবাবে কাবুলে ২৯ আগস্ট যে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী, তাতে নিহত হয়েছিলেন ১০ নিরীহ বেসামরিক মানুষ। এই নিহতদের মধ্যে ৭ জনই ছিল শিশু।

তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ যে মারা গিয়েছিল, তার নাম সুমাইয়া, বয়স মাত্র ২ বছর।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর মেরিন শাখার শীর্ষ নির্বাহী জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক ভুল’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত থেকে জানা গেছে, কাবুলে ওই হামলা ছিল একটি দুঃখজনক ভুল।’

গত ১৫ আগস্ট তালেবান বাহিনী কাবুল দখলের পর দলে দলে মানুষ আফগানিস্তান ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের যাওয়ার জন্য হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়ো হতে থাকেন। এই মানুষদের মধ্যে আফগানিস্তানে অবস্থানরত বাইরের দেশের নগরিকরা ছাড়াও ছিলেন হাজার হাজার আফগান, যারা গত ২০ বছরের যুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন।

ফলে বিমানবন্দরে ব্যাপক হৈ চৈ ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়, যা নিয়ন্ত্রণে রীতিমত গলদঘর্ম হয়ে উঠছিল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও মার্কিন সৈন্যরা। এই পরিস্থিতিতে গত ২৬ আগস্ট বিমানবন্দরে পরপর দু’টি হামলা করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসের খোরাসান শাখা। এই দুই হামলার মধ্যে একটি ছিল আত্মঘাতী, অপরটি ছিল গাড়িবোমা হামলা।

ভয়াবহ সেই হামলায় ১৩ মার্কিন মার্কিন সেনাসহ নিহত হয়েছিলেন ১৭০ জনেরও বেশি আফগান।

আইএসের সেই জোড়া হামলার জবাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিলো জোড়া হামলার মাধ্যমেই। প্রথম দফায় ২৭ আগস্ট আফগানিস্তানের নানগাহার প্রদেশে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী, তাতে আইএস খোরাসান শাখার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নিহত হয়ে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দফতর পেন্টগন।

দ্বিতীয় দফায় গত ২৯ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে জামিরি আখমাদি নামে এক স্থানীয় আফগানের বাড়িতে ড্রোন হামলা করা হয়েছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর ধারণা ছিল, ২৬ আগস্ট যে বিমাবন্দরে আত্মঘাতী হামলার পাশপাশি যে গাড়িবোমা হামলা হয়েছিল তাতে আখমাদি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

এ সংক্রান্ত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আইএস খোরাসানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে, কাবুলের এমন একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে ব্যাগে করে কিছু নিয়ে গাড়ির পেছনের বুটে রাখছেন আখমাধি। তারপর গাড়িতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ২৫ আগস্ট ঘটেছিল এই ঘটনা।

কিন্তু পরে গেছে, ওই ব্যাগে বিস্ফোরক নয়, পানির বোতল ছিল। আরও জানা গেছে, আখমাধির সঙ্গে আইএসের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন নামে একটি আন্তর্জাতিক এনজিওতে চাকরি করতেন এবং কাবুল তালেবান দখলে যাওয়ার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মার্কিন সেনা বাহিনীর তদন্তে আরও উঠে এসেছে- গাড়িবোমা হামলায় যে গাড়িটি ব্যবহার করেছিল আইএস জঙ্গিরা, সেটি ছিল আসলে একটি জ্বালানীভর্তি ট্যাংকার এবং ওই ট্যাঙ্কারটি বিমানবন্দর এলাকায় পরিকল্পিতভাবেই রাখা হয়েছিল।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা এখন জানি যে জামিরি আখামাদির সঙ্গে আইএস খোরাসানের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমরা আরও জানতে পেরেছি, ভিডিও ফুটেজে যে চিত্র দেখে তার প্রতি আমরা যে সন্দেহ করেছিলাম, সেটিও সঠিক ছিল না।’

‘আমরা ক্ষমা চাইছি; এবং কথা দিচ্ছি, এখান থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করব এবং পরবর্তীতে যেন এমন ভয়ঙ্কর ভুল না হয় সে বিষয়ে যতœশীল হব।’

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর