খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

খুলনা-মোংলা মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চালকদের। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ হতে মোংলার দিগরাজ পর্যন্ত এই রাস্তাটির অধিকাংশ অংশ ভাঙা আর খানাখন্দে ভরা। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে কাঁদার সৃষ্টি হলে বোঝার উপায় থাকে না যে এটি একটি মহাসড়ক। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এর উপর দিয়ে শতশত ভারি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। নিয়মিত মেরামত করা হলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তবে মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি টিকছে না বলে দাবি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তাই সড়কটির চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাস্তাটি ছয় লেনে উন্নীত করতে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিভাগটি।

সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মহাসড়কটির পৌনে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহ্বান করে সওজ। ওই দরপত্রে মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের উন্নয়ন কাজ পায়। আট কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের জুনে এই উন্নয়ন কাজ শেষ করে সওজ’র কাছে হস্তান্তর করে রাস্তাটি।

রফিকুল ইসলামসহ একাধিক গাড়িচালক বলেন, ‘রাস্তাটি দিয়ে আমাদের সবসময় চলাচল করতে হয়। প্রায়ই রাস্তার মেরামত করা হচ্ছে তবে তা টিকছে না। ভারি যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।’

বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও জেলার জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আহাদ হায়দার জানান, বাগেরহাটের মোংলা বন্দর এলাকায় নতুন নতুন ভারি ভারি শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প কলকারখানার পন্য পরিবহণের পথ এ মহাসড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়কের উপর দিয়ে শতশত ভারি যানবাহণ চলাচল করে। যে কারণে সড়কটি অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সওজ এই রাস্তার ভেঙে যাওয়া অংশ কখনো কখনো নিজেরা মেরামত করছে, আবার কখনো কখনো দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মেরামত করাচ্ছে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই রাস্তাটি আবার চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা করে এবং সড়কের ঢোকার মুখে ওভার লোডিং মাপার যন্ত্র বসানোর দাবি তার।

বাগেরহাট সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই খুলনা-মোংলা সড়কটির বেলাই ব্রিজ হতে দিগরাজ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়া সড়কের এই এলাকা নিচু হওয়ায় ও দুই লেনের এই রাস্তাটি দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল করায় মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং দিনদিন তা বাড়ছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাস্তাটি ছয় লেনে উন্নীত করা এবং রাস্তার ধারণক্ষমতা মাপার একটি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ স্টেশন চালু করতে হবে। তা নাহলে এই রাস্তা যতই মেরামত করা হোক কোনো অবস্থাতেই তা টিকবে না। তাই আনুমানিক ২২০০ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরে ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়ে একটি প্রস্তাবনারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর