করোনায় ‘অটোপাস’: পরীক্ষা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি!

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

শিক্ষা ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের মহামারি করোনার সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে গত মার্চ থেকেই বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বে চলমান এই মহামারির কারণে দেশের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং সমমানের পরীক্ষা ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের উপরের শ্রেণিতে প্রমোশনের চিন্তাভাবনাও করছে সরকার।

তবে এতকিছুর মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই চান্স পেতে হবে। এখানে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। নিজ যোগ্যতায় আসন নিয়ে এগুতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে। তবে কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

এ দিকে, মহামারির কারণে এইচএসসি না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উদ্বিগ্ন আছেন। জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হলেও, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে পরীক্ষা পেছাতে পারে।

সেক্ষেত্রে শীতের শেষে ফেব্রুয়ারি বা মার্চে পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য মিলেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি অপেক্ষা করতে না চায়, তাহলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন করা হলেও স্বশরীরে পরীক্ষাটি হবে না।

জানা গেছে, এ নিয়ে ইউজিসি আগামী ১৫ অক্টোবর বৈঠক ডেকেছে। এ দিকে, গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সমন্বিতভাবে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

স্বশরীরে পরীক্ষাটি নেওয়া যাবে কি-না, সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না এখনই। পরীক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে। প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে তিনটি পদ্ধতির প্রস্তাব এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথমে গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির চিন্তা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে ইউজিসি বৈঠকে বসেছিল গত বছরের শেষের দিকে। প্রথম বৈঠকে এ পদ্ধতি বাদ দিয়ে সমন্বিত এবং পরে ক্যাট পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও করা হয়। ওই কমিটিই ভর্তিতে ক্যাট পদ্ধতির প্রস্তাব করে।

এ ব্যাপারে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, গত ২৩ মার্চ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে একটি সভা ছিল। এখন করোনার কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনলাইনে সভা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, তারপরও সরকার যেহেতু এইচএসসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। পরিস্থিতি ভালো হলে অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, এর বিকল্প নেই।

অন্যদিকে বিষয়টিতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বলেন, আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাব। এ ক্ষেত্রে তিনটি গুচ্ছ হবে। এগুলো হচ্ছে- কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। আগামী ১৫ অক্টোবর এ নিয়ে একটি বৈঠক আছে। সেখানে বিষয়টি আলোচনা হবে বলে আশা রাখছি। সেখানে আলোচনার পর এটির ফাইনাল সিদ্ধান্ত দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর