একদিনের ছায়া প্যানেল মেয়রের ১০ সুপারিশ

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১

একদিনের জন্য ছায়া প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন দলিত শিশু শিমলা দাস। সোমবার(৬ ডিসেম্বর) এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এক দিনেই নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা এবং ৫ নম্বর ঘাট এলাকার হরিজন পল্লী পরিদর্শন শেষে বিকেলে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন কেসিসির প্যানেল মেয়র-২ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: আলী আকবর টিপুর কাছে।

এসময় নারী নির্যাতন বন্ধে তার কাছে দেয়া হয় দশ দফার সুপারিশমালা। এভাবেই সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে দলিত ও সম্প্রীতি ফোরাম।

গতকালকের এ ভিন্নরকম আয়োজন অনেকেরই নজর কাড়ে। একদিনের ছায়া প্যানেল মেয়র শিমলা দাস দায়িত্ব পালন করেন কেসিসির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের চেয়ারে বসেই। হঠাৎ কোন নাগরিক ওই অফিসে গিয়ে এমন ভিন্নতা দেখে অনেকটা
হতচকিত হয়েও পড়েন।

সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর আর দিনশেষে আবারো দায়িত্ব ফেরত পেয়ে প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু বললেন, আমাদের সবাইকে মিলেই এই সমাজকে, এই শহরকে বিশেষ করে আমাদের দেশকে গড়তে হবে। জনগনের পাশে থেকে আমরা সকলে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ শহরকে নিয়ে আগামী দিনের যে স্বপ্ন সেটি বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসারও আহবান জানান তিনি।

একদিন দায়িত্ব পালন শেষে দলিত শিশু শিমলা দাস কেসিসির প্যানেল মেয়র ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: আলী আকবর টিপুর কাছে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।

যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যমত গড়ে তোলা, এডভোকেসী ও সমাবেশের উদ্যোগ নেয়া, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ইন্টারনেটযুক্ত মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, ভিডিও প্লেয়ার বা এমন মোবাইল ডিভাইস না দেয়া যা দ্বারা সে অশ্লীল কিছুর প্রতি আসক্ত হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কিশোরী ও নারীদের সর্বোত্তম নিরাপত্তার স্বার্থে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ বক্স স্থাপনসহ অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা জোরদার করা প্রভৃতি।

সর্বোপরি সিটি কর্পোরেশনের বার্ষিক বাজেটে দলিত নারী ও কিশোরীদের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখারও সুপারিশ করা হয়। ‘কমলা রঙের বিশ^ গড়ি, নারী নির্যাতন বন্ধ করি, এখনই’ এই শ্লোগানের মধ্যদিয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দলিত ও সম্প্রীতি ফোরাম এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

একদিনের ছায়া প্যানেল মেয়র শিমলা দাস বলেন, গতকালকের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তাতে একজন জনপ্রতিনিধিকে কতটা কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করতে হয় সেটি যেমন বুঝতে পেরেছেন তেমনি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া মনুষগুলোর দুর্ভোগের চিত্রও তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। বিশেষ করে নগরীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকার হরিজন পল্লী পরিদর্শনকালে দেখা গেছে ১০০টি পরিবারের জন্য মাত্র তিনটি টয়লেট। নেই সুপেয় পানির কোন সুব্যবস্থা। শিশুদের বেড়ে উঠতে হচ্ছে ঘিঞ্জির পরিবেশে। এছাড়া পাশ্ববর্তী কিছু বখাটেদের দ্বারা হরিজন পল্লীর কিশোরীরা যৌন হয়রানির ঝুঁকিতেও থাকে। সব মিলিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া এসব মানুষগুলোর জীবন মান উন্নয়নের মধ্যদিয়েই দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন। বিশেষ করে সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অবশ্যই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিতে হবে এমন মন্তব্যও করেন শিমলা দাস।

ছায়া প্যানেল মেয়র শিমলা দাসের কাছ থেকে কেসিসির প্যানেল মেয়র-২ আলী আকবর টিপু দায়িত্ব গ্রহণকালে অনুষ্ঠিত দায়িত্ব হস্তান্তর-গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, দলিত’র প্রকল্প কর্মকর্তা জুলি বাড়ই। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক নেতা মো: সাবির খান,সম্প্রীতি ফোরামের সহ-সভাপতি ইশরাত আরা হীরা, কেসিসির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: কবির উদ্দিন প্রমুখ। সভায় বক্তারা আরও বলেন, সব মানুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দলিত শ্রেণির তথা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো যেমন এগিয়ে যেতে পারবে তেমনি ভবিষ্যত কর্মপন্থা সম্পর্কেও তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি হবে।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর