আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্র হঠিয়ে আগামীর নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০

খুলনায় ৫৬ তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, লন্ডনে প্রবাস জীবনে থেকেও তিনি দেশে বিএনপি এবং অঙ্গদলসমুহকে শক্তিশালী করতে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। অচিরেই বিএনপি একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে এবং জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে গণঅভ্যূত্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অনির্বাচিত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাবে।

জিয়া পরিবারের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে একজন মেজর জিয়া দুঃসময়ের কান্ডারী হয়েছিলেন। সামরিক স্বৈরশাসক হঠিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপোসহীন আন্দোলন করে ইতিহাসে স্থান নিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সেই ঝান্ডাকে হাতে নিয়ে আধিপত্যবাদীদের সকল ষড়যন্ত্র হঠিয়ে আগামীর নেতৃত্ব দেবেন দেশনায়ক তারেক রহমান। আর সে জন্য দলীয় নেতকর্মীদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান বক্তারা।

শনিবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহানগর ও জেলা বিএনপির যৌথ আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে মিলনায়তন ও মঞ্চকে বেলুন ফেস্টুন ফুলে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। নির্মাণ করা হয় সুদৃশ্য তোরণ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা। আলোচনায় অংশ নেন শফিকুল আলম তুহিন, মেজবাউল আলম, আজিজুল হাসান দুলু, এহতেশামুল হক শাওন, জামাল হোসেন তালুকদার, শেখ তৈয়েবুর রহমান, আজিজা খানম এলিজা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, কাজী নেহিবুল হাসান ও হেলাল আহমেদ সুমন। মাসুদ পারভেজ বাবুর সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ। আলোচনা শেষে তারেক রহমান সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তারেক রহমান একজন পোড় খাওয়া স্বপ্নদ্রষ্টা রাজনীতিবীদ। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি দেখেছেন তার পিতা স্বাধীনতার ডাক দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন। ভয়ানক অনিশ্চয়তা ও গভীর উৎকন্ঠায় দুই সন্তানকে নিয়ে তার মা দিন কাটিয়েছেন। ১১ বছর বয়সে দেখেছেন তার পিতা ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শূণ্যস্থান পূরণ করেছেন। তিনি যখন ১৬ বছরের কিশোর তখন শোকাহত মায়ের পাশে দাড়িয়ে দেখেছেন কফিন বন্দী পিতার ক্ষতবিক্ষত লাশ। দেখেছেন কিভাবে তার অতি সাধারণ গৃহবধূ মা গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে নেমে এসে সংগ্রাম করেছেন, ভঙ্গুর দলকে পুনর্গঠিত করেছেন এবং দলকে ক্ষমতায় নিয়েছেন। ক্ষমতার খুব কাছে থেকেও তিনি সরকারের অংশ হননি। বরং দলে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন এবং ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে রাজনীতিকে তৃণমূলের কাছে নিয়ে যান। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে মানব সেবায় দলকে নিয়োজিত করেন। নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব সৃষ্টিতে একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, প্রথাগত রাজনীতিবীদ, কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী এবং আধিপত্যবাদী শক্তির এ দেশীয় দোসরদের কাছে তারেক রহমানের এসব কর্মসূচি ছিল আতংকের কারণ। আর তাই দেশি ও বিদেশি অপশক্তির সম্মিলিত চক্রান্তে দেশে ওয়ান-ইলেভেনের সৃষ্টি করা হয় এবং বর্বরোচিত নির্যাতনে তারেক রহমানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আল জামাল ভূইয়া, আব্দুল আজিজ সুমন, তরিকুল ইসলাম তারেক, নিঘাত সীমা, জাকির ইকবাল বাপ্পী, মেহেদী মাসুদ সেন্টু, আসাদুজ্জামান আসাদ, শরিফুল ইসলাম নিপুন, মোঃ মইদুল হক টুকু, শরিফুল ইসলাম টিপু, মুনতাসির আল মামুন, শরিফুল আলম শরিফ, ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ, সোহেল মোল্লা, মনিরুজ্জামান মনি, হারুন অর রশিদ মাসুম, কামাল হোসেন, এম এম জসিম, সোহরাব হোসেন, রাজু আহমেদ, মিজানুর রহমান বাবু, শাহনাজ সরোয়ার, জোবের আলম তুয়াজ, জসীমউদ্দিন ডেভিড, সোহেল রানা, রাজিব খান, শাকিল আহমেদ, আবিদ হাসান, সিরাজুল ইসলাম সানি, মেহেদী হাসান বাপ্পী প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর