অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মানবিক বাজেট

খুলনার চিত্র ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা এবং অর্থনীতিকে সচল রেখে, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান ও চাকরি রক্ষার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখা হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সুযোগ্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছিলেন। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি এবং অচলাবস্থার মধ্যেও বিগত অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি সচল ছিল। জাতিসংঘের পর্যালোচনায় ২০১৯ সালে মাথাপিছু আয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড ১,২২২ মার্কিন ডলার হলেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২০১৯ সালের ১,৮২৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে তা ২,২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বিগত বছরের সফল বাজেটের ধারাবাহিকতায়ই পেশ হলো ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন বাজেট।

করোনা মহামারি মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নানামুখী কৌশল নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষিত হলো, বিগত অর্থবছরের তুলনায় যা ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বেশি। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটকে “মানুষের জন্য বাজেট” এবং “স্বপ্ন পূরণের বাজেট”হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ এই বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে তিনটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে – স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা। অন্যান্য যে খাতগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলি হলো পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ, জলবায়ু ও পানি, কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি।

প্রস্তাবিত বাজেটে সকল প্রকার বিলাসী পণ্য বিশেষ করে আমাদানী করা বিদেশি পণ্যের উপর ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে। মহামারির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সহায়তার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর পরিধি বাড়িয়ে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ৮ লাখ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে বাল্যবিবাহ নির্মূলের পরিকল্পনাও রয়েছে এই বাজেটে। করোন নির্মূল,স্বাস্থ্যখাতের অর্জনগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতে মহামারির হাত থেকে রক্ষা পেতে মানসম্মত গবেষণা ভিত্তিক স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই খাতে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন বাজেটে বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণে কর অবকাশ সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভাগীয় শহর ছাড়া অন্য জেলায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণ করলে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বাজেটকে “মানবিক বাজেট” হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বৈশ্বিক মহামারির এই কঠিন সময়ে এটি অত্যন্ত সাহসী এবং সময়োপযোগী বাজেট বলে মনে করেন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, দেশের বৃহৎ শিল্পের বিকাশ ও আমদানি বিকল্প শিল্প উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করতে “মেইড ইন বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য অটোমোবাইলের মতো ভারি প্রকৌশল শিল্পে ১০ বছর মেয়াদি কর অব্যাহতির প্রস্তাব করেছেন। ক্ষেত্রবিশেষে হালকা শিল্পের জন্যও একই প্রস্তাব করেছেন। আগামী চার বছরের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। সাধারণ মানুষের কাঁধে করের অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে ধনীদের সম্পদে সারচার্জ বসিয়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির কথা বলেছেন।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বাজেট কর ছাড়ের ক্ষেত্রেও ইতিহাস গড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে প্রন্তাবিত বাজেটে বাস্তুবমুখী নানা পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের কর অবকাশ ও কর ছাড়। করপোরেট কর, আগাম আমদানি কর ও ন্যূনতম কর হ্রাসএবং ভ্যাটজনিত জরিমানার হার কমানো, একক মালিকানাধীন ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ কর ছাড়, ভ্যাট অব্যাহতির তালিকা বৃদ্ধি এবং কৃষির আধুনিকায়নে কর ছাড় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পখাতে নিঃসন্দেহে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। এছাড়াও কোনো প্রতিষ্ঠান তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী নিয়োগে করলে কর ছাড় পাবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে দেশের সুবিধা বঞ্চিত সব পর্যায়ের মানুষকে নিয়ে ভাবেন এটি তারই প্রতিফলন।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থের মোড়কে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখায় সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। স্বচ্ছতা, কর ফাঁকি বন্ধ এবং অপরাধমূলক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতে আরো নানান পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত এই বাজেটে। ৫০ হাজার টাকার অধিক যে কোনো পরিশোধ ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে দুদককে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জনস্বার্থে মোবাইল ব্যাংকিং আরো বিস্তৃত এবং সহজিকরণ করা হয়েছে।

করোনাকালীন মহামারি এই সময়ে প্রস্তাবিত এই বাজেটকে উদ্যোক্তা এবং অর্থনীতিবিদ উভয় পক্ষই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। সস্তা রাজনৈতিক বিরোধীতা ছাড়া সকলেই এই বাজেটকে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং শিল্পবান্ধব বাজেট হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জনকল্যাণ এবং উন্নয়নমুখী সরকারের এই বাজেটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারই প্রতিফলিত হয়েছে। এই বাজেট তাই সত্যিকার অর্থেই “মানুষের জন্য বাজেট”, “স্বপ্ন পূরণের বাজেট”।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগ

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর