অপসাংবাদিকতা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হোক

মোঃ আশরাফুল ইসলাম
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পন বা আয়না। সেই আয়নাতে সমাজের যে চিত্র যারা তুলে ধরেন তাদেরকে বলা হয় সাংবাদিক। আজ তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সংবাদমাধ্যম নানান মাত্রা লাভ করেছে, যেগুলিকে বলা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি। একই সঙ্গে এগুলো পরিণত হয়েছে গুজব এবং মিথ্যা সংবাদের আখড়ায়। কিন্তু সাংবাদিক নামধারী কেউ যখন সেই গুজব বা মিথ্যা সংবাদের আখড়াকে সমাজ ও রাজনীতির সেবক এমন কারো সুনাম এবং সারা জীবনের অর্জিত মান-সম্মানকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে এবং জনমানুষের আস্থায় ফাটল ধরানের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়, তাকে তখন আর যা ই হোক সাংবাদিক বলা যায় না। কারণ তিনি একজন সাংবাদিকের সাধারণ নীতি-নৈতিকতার বাইরে যেয়ে ব্যক্তিগত এবং দলীয় এজেণ্ডা বাস্তবায়নের জন্য অসৎ পন্থা অবলম্বন করেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত মেয়র জনাব তালুকদার আব্দুল খালেক শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি খুলনা তথা দক্ষিণাঞ্চলের গনমানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা এবং বিশ্বাসের একটি জায়গা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই এই যুগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে যে লাগমহীন গুজব এবং অপসাংবাদিকতা চলছে, জনাব তালুকদার আব্দুল খালেকের মতো একজন ব্যক্তি তার শিকার হবেন আমরা তা মেনে নিতে পারি না।

জনাব তালুকদার আব্দুল খালেকের সততা, নেতৃত্বগুণ এবং জনসম্পৃক্ততা প্রশ্নাতীত এবং প্রমাণিত বলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবর তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন। যখন পদ ও পদবীর লোভে অনেকেই নানান জায়গায় ধর্ণা দিতে থাকেন, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই শুধু জনাব তালুকদার আব্দুল খালেককে নয়, তাঁর সহধর্মিণী হাবিবুন নাহারকেও বেছে নেন এবং উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই জনাব তালুকদার আব্দুল খালেক দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতির একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব।

জনাব তালুকদার আব্দুল খালেক তাঁর রাজনীতি শুরু করেছিলেন তৃণমূল পর্যায় থেকে। বঙ্গন্ধুর মতোই গ্রাম থেকে উঠে আসা একটি তরুণ তাঁর সততা ও নেতৃত্বের গুণে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকেরদায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন খুলনা পৌরসভার মহসিনাবাদ ইউনিয়নেরকমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন দুই দুইবার। সভাপতি হিসেবে খুলনা জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রামপাল-মোংলা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৪ সালে মোট চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেখানে তিনি অত্যন্ত সফলভাবেত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বপালন করেছেন ৬ জেলার ডিস্ট্রিক্ট মিনিস্টার হিসেবে। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে অতুলনীয় ভূমিক রেখেছেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে দূর্নীতি মুক্ত করে একটি স্বাবলম্বী এবং সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। আজ খুলনা মহানগরের প্রতিটি পাড়ায় এবং মহল্লায় যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে তার প্রায় প্রতিটি কাজ তিনি সরেজমিনে নজর রেখে সেগুলির মান ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছেন।

জনাব তালুকদার আব্দুল খালেক এমন একজন রাজীতিবিদ সততা এবং কর্মনিষ্ঠা যার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের পুঁজি। হলুদ সাংবাদিকতার অপচেষ্টায় যখন তাঁর মতো একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে মিথ্যা এবং বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে তাঁর সম্মান নষ্টের চেষ্টা করা হয়, তখন আইনের আশ্রয় নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, শুধু একজন তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রতি অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে হলুদ সাংবাদিকতার হাত থেকে রক্ষার জন্যও। আমরা জানি সাংবাদিক পরিচয়ধারী আবু তৈয়ব কার বা কাদের হয়ে কাজ করছেন। বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত গোষ্ঠীর হয়ে সাংবাদিকতা করা আবু তৈয়ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জনাব তালুকদার আব্দুল খালেককে টার্গেট করেছেন আমরা তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এবং অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি সকল সচেতন নাগরিকের।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ।

সংশ্লিষ্ঠ আরও খবর