আজ || শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪
শিরোনাম :
  খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ইদজামাত আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিটি মেয়র       খুলনায় ঈদের প্রধান জামাত সার্কিট হাউজ মাঠে সকাল ৮টায়       পুত্রবধূর সঙ্গে ঝগড়া করে পুকুরে পড়ে শাশুড়ির মৃত্যু       নিউজিল্যান্ডকে বিপদে ফেলে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ       নগরীতে ইজিবাইক চালক রায়হান হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উন্মোচন : দুই ঘাতক গ্রেফতার       নাড়ির টানে ঘরে ফিরছে মানুষ       যশোরে আইনজীবীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেত্রীর শ্লীলতাহানির মামলা       স্বাভাবিক জীবনে আসা বনদস্যুদের মাঝে র‌্যাবের ঈদ সামগ্রী বিতরণ       ঘুমন্ত মায়ের কোল থেকে শিশু চুরির অভিযোগ       এই সংগ্রাম দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার : মির্জা ফখরুল    
 


অন্ধত্বকে হার মানিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে লিটন

‘সাতক্ষীরার কণ্ঠে’ অংশগ্রহণ করছেন দৃষ্টিজয়ী লিটন দাস। হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে নিজ স্বপ্নকে বাস্তবে দেখতে নিজের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টি শক্তিহীন অদম্য কণ্ঠের অধিকারি লিটন দাস। নিজের দু-চোখের অন্ধত্বতটা যাকে হার মানাতে পারেনি। চোখের দৃষ্টি না থাকলেও অন্তরের জ্ঞানের আলো দিয়ে গানকে নিজের মতো করে অর্জন করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সবার মাঝে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আয়োজিত ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে সাতক্ষীরার কণ্ঠ রিয়েলিটি শো ২০২৩ এর উপজেলা পর্যায়ের অডিশন শুরু হয়েছে। অংশগ্রহণ করছেন দৃষ্টিজয়ী লিটন দাস। তার স্বপ্ন তার গানের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে ভালো মাপের শিল্পী হওয়া। কিন্তু তার এই স্বপ্ন পূরণে আছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। সাতক্ষীরা তালা উপজেলার তালা সদর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে। দিনমজুর পরিমল দাশ-পূর্ণিমা দম্পতির সন্তান লিটন দাস। দরিদ্র পরিবারে ৪ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। তার তিন ভাই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, অদম্য কণ্ঠের অধিকারী লিটন জন্মান্ধ না। জন্মের সময় সৃষ্টি কর্তার আর্শীবাদে দুই চোখ ভরা ছিলো আলো। এখান থেকে ৬ বছর আগে তার বড় ধরনের অসুখ দেখা দেয়। পরে ভুল চিকিৎসার কারণে তার দুচোখ হারাতে হয়। দু’চোখে আস্তে আস্তে ইনফেকশন হয়ে অন্ধত্ব বরণ করতে হয় লিটনকে। কিন্তু বাবা দিনমজুর হওয়ায় দরিদ্র এই পরিবারের চিকিৎসা করানোর সাধ থাকলেও নেই সাধ্য।

লিটন দাস জানান,’আমার ছোট থেকে ইচ্ছা আমি জীবনে গান গেয়ে বড় কিছু করবো। কিন্তু দরিদ্রের কারণে আমি আমার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারি নি। আমি আমার প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর জন্য গ্রামে-গঞ্জে হাট বাজারে গান গেয়ে মানুষের মন জয় করা শুরু করি। গানকে নিয়ে বড় হওয়ার তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা আমি পায়নি। আরও জানান, আমি আমার এ দু-চোখ ভরে আবারো সুন্দর পৃথিবীটা দেখতে চাই আমার গানের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে। ধন্যবাদ জানায় জেলা প্রশাসক স্যারকে আমাকে সাতক্ষীরার কণ্ঠে সুযোগ করে দিয়ে আমার প্রতিভাকে বিকশিত করানোর জন্য।

লিটন দাসের পিতা পরিমল দাশ বলেন, ‘বাড়ি ভিটে টুকু ছাড়া কিছু নেই। আমি কাজ করতে পারি না অন্ধ ছেলে গান গেয়ে গেয়ে যে টাকা উপার্জন করে তাই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি বাজারে ছেলের প্রতিবন্ধি ভাতা দিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার কারণে আজ আমার ছেলের দুচোখ নষ্ট হয়ে গেলো।

তার মা পূর্ণিমা দাস কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন,’সংসারে প্রতিবন্ধি সন্তান আছে। এর মধ্যে লিটন ভালোই ছিল ছোটবেলায়। একটি সমস্যা হবার পর ভুল চিকিৎসায় ছেলেটার দুই চোখে আজ অন্ধ। আমার ছেলেটা ভালো গান গায়। সবার আমার লিটনের জন্য আশীর্বাদ করবেন যাতে করে সবার কাছে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে।

 


Top